মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

এক নজরে

পাতা

এক নজরে

ইসলামের প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ এক অধ্যাদেশবলে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। ২৮ মার্চ ১৯৭৫ সালে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ্যাক্ট’ প্রণীত হয়। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান। সুপ্রাচীন কাল থেকে এ দেশে ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধ চর্চা হয়ে আসছে। ইসলামের এই সমুন্নত আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসার কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এ্যাক্ট অনুযায়ী এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ১৯৮৩ সালে ময়মনসিংহে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণী :-

  1. : মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্য্ক্রম (১ম সংশোধিত) প্রকল্প :  মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্য্ক্রম (১ম সংশোধিত) প্রকল্প ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সর্ব বৃহৎ প্রকল্প। ১৯৯৩ সন থেকে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে কোমলমতি শিশুদের পবিত্র কোরআন ও মৌলিক জ্ঞান প্রদানের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধকল্পে সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। শুরু থেকেই প্রকল্পটি অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করে চলছে। বর্তমানে প্রকল্পটি ৬ষ্ঠ পর্য্ায় সমাপ্তের পথে। সারা দেশে প্রায় সত্তুর হাজার কেন্দ্রে কোমলমতি শিশুরা পবিত্র কোরআন শরীফ সহীহভাবে শিখতে পাচ্ছে। পাশাপাশি প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মৌলিক জ্ঞান আহরণের সাথে সাথে ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে। ময়মনসিংহ জেলায় এ পর্য্ন্ত ১০৫০ টি প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্র, ১৩৩২ টি কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র, ও ১২ টি বয়স্ক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। জেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে এবং প্রতিটি মসজিদে এই কাজ ছড়িয়ে দিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে ।
  2.  মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প : মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প- (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ২৯,২৪২ টি মসজিদ পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ১৫,৫০০ টি বিদ্যমান পাঠাগারে পুস্তক সংযোজন করা হয়েছে এবং ৭,৫০০ টি পাঠাগারে পুস্তক সংরক্ষণের জন্য আলমারী ও শোকেস প্রদান করা হয়েছে। তন্মধ্যে ৬৪ টি জেলায় ৬৪ টি মডেল পাঠাগার এবং ৪৭৭ টি উপজেলা মডেল মসজিদ পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। সমাজের জনগণের মধ্যে পবিত্র কুরআনুল কারীম ও ইসলামী পুস্তকের পাঠ্যভাস গড়ে তোলা, নৈতিক অবক্ষয় রোধ, ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে প্রকল্পটি কাজ করছে।
  3. প্রকাশনা ও বই বিক্রয় কার্যক্রম : ইসলামের প্রচার প্রসারের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর সৃষ্টি, আর প্রকাশনা বিভাগের মাধ্যমেই উক্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অনেকটাই বাস্তবায়ন করা হয়। ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলী , আল কুরআনুল করীম ও কুরআন সম্পর্কিত, মহানবী (সা.)-এর সীরাত ও হাদীস সম্পর্কিত ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ইসলামের আইন, তাফসীর, হাদীস, দর্শন, মুসলিম মনীষীদের জীবনী, ইসলামী অর্থনীতি, নারী মনীষীদের জীবনী, যৌতুক, মানবাধিকার ও শিশু কিশোর উপযোগী চরিত্র গঠনমূলক সাহিত্য ইত্যাদি বিষয়ে পুস্তক, মুল্যবোধ ও শিক্ষর প্রচার ও প্রসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ এ বিভাগের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। প্রকাশিত যাবতীয় পুস্তক ও পত্রিকা আগারগাঁও প্রধান কার্যালয়, বায়তুল মুকাররমসহ বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়ে থাকে।
  4. ইসলামিক মিশন : বর্তমানে দেশে ৩২ টি জেলার ৪০ টি ইসলামিক মিশনে এ্যালোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক ও রোগ নিরুপনী চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রয়েছে, প্রতিটি মিশনে দুইজন এম.বি বি.এস চিকিৎসক এবং একজন ডি.এইচ.এম এস হোমিও চিকিৎসক রয়েছেন। রোগনিরুপনী পরীক্ষার জন্য একজন ল্যাবরেটরী টেকনিশিয়ান কর্মরত আছেন। গরীব, দরিদ্র, দু:স্থ ও অসহায় মানুষ মিশনে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। ইসলামিক মিশন হতে সকল রোগীদের প্রয়োজনীয় ঔষধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। ময়মনসিংহ জেলার দুইটি ইসলামিক মিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তার একটি হচ্ছে হালুয়াঘাট উপজেলার ছাতুগাঁওয়ে এবং অপরটি ধোবাউড়া উপজেলার পুটিমাড়ীতে অবস্থিত।  ইসলামিক মিশনের মাধ্যমে কালকিনী মাদারীপুর ইসলামিক মিশন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ এবং ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সিরতায় ইসলামিক মিশন হাসপাতালের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার বায়তুল মোকাররম ডায়গনস্টিক সেন্টার শক্তিশালী করণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের জনসাধরণকে সেবা প্রদান করে আসছে।
  5. যাকাত আদায় ও বিতরণ : চলতি অর্থ বছরে ৩০ শে জুন পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা যাকাত আদায় হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাগণের সহযোগিতায় যাকাত আদায় কাজ অব্যাহত রয়েছে। যাকাত ফান্ড অর্ডিন্যান্স রুলস-৮৩ এর ধারা অনুয়ায়ী ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিভাগীয়/জেলা কার্যালয় কর্তৃক সংগৃহীত যাকাতের ৫০% সংশ্লিষ্ট বিভাগীয়/জেলা কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়ে থাকে। গত ১৬/১০/২০১৮ খ্রি: তারিখে অনুষ্ঠিত যাকাত বোর্ডের ৫৪ তম সভায় আরও অতিরিক্ত ২০% অর্থ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয়/জেলা কার্যালয়ে প্রদানের সিদ্ধান্তের আলোকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছর সংগৃহীত যাকাতের মোট টাকার (৫০%+২০%) = ৭০% অর্থ যাকাত বোর্ড কর্তৃক প্রেরণ করা হয়। জেলায় স্থায়ীভাবে অর্থিক সাহায্য প্রার্থী/আবেদনকারীর মধ্য হতে কেবলমাত্র যাকাত পাবার উপযুক্তদের মধ্যে ১. দু:স্থ পুরুষদের কর্মসংস্থানের জন্য রিসকা, ভ্যান, ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদি। ২. পুরুষ/মহিলাদের জন্য কর্মে অক্ষম, অহসহায়, সেলাই মেশিন, মেয়ে বিবাহ, হাঁস-মুরগী ও গরু-ছাগল পালন, গৃহ মেরামত, ঋণগ্রস্থকারীর ঋণ পরিশোধের জন্য যাকাত ভাতা প্রদান। ৩. গরীব/দু:স্থ ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাস্তর অনুযায়ী কম-বেশী শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। ৪. প্রকৃত গরীব/দু:স্থ প্রতিবন্ধিদের পুনর্বাসন করা হয়।  ৪. জটিল ও দুরারোগ্য চিকিৎসার জন্য দু:স্থ ও গরীব রোগীদের চিকিৎসা বাবদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ৫. প্রকৃত দু;স্থ নও-মুসলিম পুরুষ/মহিলাদের স্বাবলম্বী করণ। উল্লেখিত খাতসমূহের বিতরণের নিমিত্ত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জনপ্রতি গড়ে ৬,০০০/- (ছয় হাজার) টাকা জেলা/উপজেলা যাকাত কমিটির মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থ দ্বারা যাকাত সামগ্রী/নগদ অর্থ জরুরিভিত্তিতে বিতরণ সম্পন্ন করা হয়।
  6. হজ্ব : সুষ্ঠ ভাবে পবিত্র হজ্ব পালন করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন সারাবছর সরকাররি ব্যবস্থাপনায় হজ্জে গমনেচ্ছুক সম্মানীত হজ্বযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন করা হয় এবং প্যাকেজ ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধন সম্পন্ন করাসহ হজ্জের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারি/বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সম্মানীত হজ্বযাত্রীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়ে থাকে।
  7. ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকাত্মিক প্রচেষ্টায় ২০০১ সালে ৫৬ আইনের মাধ্যমে ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যান ট্রাস্ট গঠিত হয়। ট্রাস্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা। শুরু থেকে ২০১৭-১৮ অর্থ বছর পর্যমত্ম সরকার মোট ৩২ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে মঞ্জুরী প্রদান করেন মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯-২০ অর্থ বছরে আরো ১০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করেন। ট্রাস্টের শুরু থেকে ২০১৭-১৮  অর্থ বছর পর্যন্ত সকল জেলার সদস্যভুক্ত ঋণ হিসেবে ৭,৪৪৩ জনকে ৮,৭৭,৯৭,৫০০ টাকা এবং আর্থিক সাহায্য (অনুদান) হিসেবে ৯,৬৪৯ জনকে ৩,৩৩,৫৮,০০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে ট্রাস্টের সদস্যভুক্ত ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারের অধিক। ট্রাস্টের কার্যাবলীর মধ্যে রয়েছে কোন ইমাম বা মুয়াজ্জিন মারাত্বক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব, দুরারোগ্যব্যাধি ইত্যাদি জনিত কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে তাকে আর্থিক সাহায্য প্রদান, কোন ইমাম বা মুয়াজ্জিন আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারকে আর্থিক সাহায্য প্রদান। ইমাম বা মুয়াজ্জিনকে সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং তাঁদের পরিবারের সার্বিক কল্যাণ সাধনকল্পে কার্যক্রম গ্রহণ।
  8. দারুল আরকাম মাদ্রাসা : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐকাত্মিক ইচ্ছায় বিগত ৩ বছর যাবৎ গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় প্রতিটি উপজেলায় ২টি করে মোট ১০১০ টি দারুল আরকাম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার জন্য মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৬ষ্ঠ পর্যায়) প্রকল্পটি ২৩ মার্চ ২০১৭ তারিখে ১ম সংশোধন প্রকল্প হিসেবে অনুমোদিত হয়, যার প্রাক্কালিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২২৭২০৪.০০ লক্ষ টাকা। ইতোমধ্যে ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাস থেকে সারাদেশে ১০১০টি দারুল আরকাম এবতেদায়ী মাদ্রাসা চালু হয়েছে। ১০১০ জন কওমি নেসাব এবং ১০১০ জন আলিয়া নেসাবের শিক্ষক নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ময়মনসিংহ জেলা ১৩টি উপজেলায় মোট ২৮ টি দারুল আরকাম এবতেদায়ী মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারম্নল আরকাম এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা।
  9. ইমাম প্রশিক্ষণ : ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অন্যতম একটি বিভাগ হচ্ছে ইমাম প্রশিক্ষন একাডেমী। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, দিনাজপুর ও সিলেট। এই ৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণকে ইসলামের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান দানের পাশাপাশি যেমন- গণশিক্ষা, পরিবার কল্যাণ, কৃষি ও বণায়ন, প্রাণী-সম্পদ পালন ও মৎস্য চাষ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও প্রাথমিক চিকিৎসা, বৃক্ষ রোপন, বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি, পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি, বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচিতি, আদর্শ পরিবার গঠন, নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশু পাচার, সমাজে অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে ব্যবহারিক ও মৌখিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে ইমামদেরকে উপার্জনক্ষম এবং সমাজে শামিত্ম ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ইমামদের প্রশিক্ষিত করে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই ইমাম প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এই প্রশিক্ষিত ইমামগণ তাদের প্রশিক্ষিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজে যেমন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে অন্যদিকে দেশ ও জাতীয় পর্যায়ে আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। উল্লেখিত প্রশিক্ষণ ছাড়াও ইউএনএফপিএ-এর অর্থানুকূল্যে ‘‘মানব সম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্তকরন।’’ প্রকল্পের আওতায় প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু ও মাতৃমঙ্গল, এইচ আইডি এইডস, সন্ত্রাস ও জঙ্গবাদ প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

ইমামগণ প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আর্থ সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। শুরু থেকে ৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ৯৫ হাজার ৮৫ জনকে প্রদান করা হয়েছে। নিয়মিত ৪৫ দিনের প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে ৩৪ হাজার ৩৩০ জনকে রিফ্রেসার্স কোর্সে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ৩৬১৩ জন ইমাম, মাদ্রাসার ছাত্র ও বেকার যুবককে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং ৩১৩৪৮ জন ইমামকে মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। USAID- এর অর্থায়নে দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ১৫ হাজার ৭০০ জন ইমামকে লিডার্স অব ইনফ্লুয়েন্স (LOI) প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ২ লক্ষ ১২ হাজার ৬৪৭ জন ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। দেশ হতে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস দূরীকরণ সমাজে শামিত্ম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ইমামদেরকে প্রশিক্ষিত করে তাদের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ার প্রচেষ্ট অব্যাহত রাখা হচ্ছে, এই প্রশিক্ষিত ইমামগণ গ্রাম-গঞ্জে মসজিদের জুম্মায় খুতবায় পূর্বে বয়ানের মাধ্যমে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রেখে চলছেন।

 

 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter