মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

এক নজরে

পাতা

এক নজরে

ইসলামের প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ এক অধ্যাদেশবলে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। ২৮ মার্চ ১৯৭৫ সালে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ্যাক্ট’ প্রণীত হয়। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান। সুপ্রাচীন কাল থেকে এ দেশে ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধ চর্চা হয়ে আসছে। ইসলামের এই সমুন্নত আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসার কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এ্যাক্ট অনুযায়ী এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ১৯৮৩ সালে ময়মনসিংহে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণী :-

  1. : মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্য্ক্রম (৭ম পর্যায় ) প্রকল্প :  মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্য্ক্রম (১ম সংশোধিত) প্রকল্প ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সর্ব বৃহৎ প্রকল্প। ১৯৯৩ সন থেকে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে কোমলমতি শিশুদের পবিত্র কোরআন ও মৌলিক জ্ঞান প্রদানের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধকল্পে সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। শুরু থেকেই প্রকল্পটি অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করে চলছে। বর্তমানে প্রকল্পটির ৭ম পর্যায় চলছে। সারা দেশে প্রায় সত্তুর হাজার কেন্দ্রে কোমলমতি শিশুরা পবিত্র কোরআন শরীফ সহীহভাবে শিখতে পাচ্ছে। পাশাপাশি প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মৌলিক জ্ঞান আহরণের সাথে সাথে ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে। ময়মনসিংহ জেলায় এ পর্য্ন্ত ১০৫০ টি প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্র, ১৩৩২ টি কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র, ও ১২ টি বয়স্ক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। জেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে এবং প্রতিটি মসজিদে এই কাজ ছড়িয়ে দিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে ।
  2.  মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প : মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প- (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ২৯,২৪২ টি মসজিদ পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ১৫,৫০০ টি বিদ্যমান পাঠাগারে পুস্তক সংযোজন করা হয়েছে এবং ৭,৫০০ টি পাঠাগারে পুস্তক সংরক্ষণের জন্য আলমারী ও শোকেস প্রদান করা হয়েছে। তন্মধ্যে ৬৪ টি জেলায় ৬৪ টি মডেল পাঠাগার এবং ৪৭৭ টি উপজেলা মডেল মসজিদ পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। সমাজের জনগণের মধ্যে পবিত্র কুরআনুল কারীম ও ইসলামী পুস্তকের পাঠ্যভাস গড়ে তোলা, নৈতিক অবক্ষয় রোধ, ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে প্রকল্পটি কাজ করছে।
  3. প্রকাশনা ও বই বিক্রয় কার্যক্রম : ইসলামের প্রচার প্রসারের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর সৃষ্টি, আর প্রকাশনা বিভাগের মাধ্যমেই উক্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অনেকটাই বাস্তবায়ন করা হয়। ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলী , আল কুরআনুল করীম ও কুরআন সম্পর্কিত, মহানবী (সা.)-এর সীরাত ও হাদীস সম্পর্কিত ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ইসলামের আইন, তাফসীর, হাদীস, দর্শন, মুসলিম মনীষীদের জীবনী, ইসলামী অর্থনীতি, নারী মনীষীদের জীবনী, যৌতুক, মানবাধিকার ও শিশু কিশোর উপযোগী চরিত্র গঠনমূলক সাহিত্য ইত্যাদি বিষয়ে পুস্তক, মুল্যবোধ ও শিক্ষর প্রচার ও প্রসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ এ বিভাগের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। প্রকাশিত যাবতীয় পুস্তক ও পত্রিকা আগারগাঁও প্রধান কার্যালয়, বায়তুল মুকাররমসহ বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়ে থাকে।
  4. ইসলামিক মিশন : বর্তমানে দেশে ৩২ টি জেলার ৪০ টি ইসলামিক মিশনে এ্যালোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক ও রোগ নিরুপনী চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রয়েছে, প্রতিটি মিশনে দুইজন এম.বি বি.এস চিকিৎসক এবং একজন ডি.এইচ.এম এস হোমিও চিকিৎসক রয়েছেন। রোগনিরুপনী পরীক্ষার জন্য একজন ল্যাবরেটরী টেকনিশিয়ান কর্মরত আছেন। গরীব, দরিদ্র, দু:স্থ ও অসহায় মানুষ মিশনে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। ইসলামিক মিশন হতে সকল রোগীদের প্রয়োজনীয় ঔষধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। ময়মনসিংহ জেলার দুইটি ইসলামিক মিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তার একটি হচ্ছে হালুয়াঘাট উপজেলার ছাতুগাঁওয়ে এবং অপরটি ধোবাউড়া উপজেলার পুটিমাড়ীতে অবস্থিত।  ইসলামিক মিশনের মাধ্যমে কালকিনী মাদারীপুর ইসলামিক মিশন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ এবং ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সিরতায় ইসলামিক মিশন হাসপাতালের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার বায়তুল মোকাররম ডায়গনস্টিক সেন্টার শক্তিশালী করণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের জনসাধরণকে সেবা প্রদান করে আসছে।
  5. যাকাত আদায় ও বিতরণ : চলতি অর্থ বছরে ৩০ শে জুন পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা যাকাত আদায় হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাগণের সহযোগিতায় যাকাত আদায় কাজ অব্যাহত রয়েছে। যাকাত ফান্ড অর্ডিন্যান্স রুলস-৮৩ এর ধারা অনুয়ায়ী ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিভাগীয়/জেলা কার্যালয় কর্তৃক সংগৃহীত যাকাতের ৫০% সংশ্লিষ্ট বিভাগীয়/জেলা কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়ে থাকে। গত ১৬/১০/২০১৮ খ্রি: তারিখে অনুষ্ঠিত যাকাত বোর্ডের ৫৪ তম সভায় আরও অতিরিক্ত ২০% অর্থ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয়/জেলা কার্যালয়ে প্রদানের সিদ্ধান্তের আলোকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছর সংগৃহীত যাকাতের মোট টাকার (৫০%+২০%) = ৭০% অর্থ যাকাত বোর্ড কর্তৃক প্রেরণ করা হয়। জেলায় স্থায়ীভাবে অর্থিক সাহায্য প্রার্থী/আবেদনকারীর মধ্য হতে কেবলমাত্র যাকাত পাবার উপযুক্তদের মধ্যে ১. দু:স্থ পুরুষদের কর্মসংস্থানের জন্য রিসকা, ভ্যান, ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদি। ২. পুরুষ/মহিলাদের জন্য কর্মে অক্ষম, অহসহায়, সেলাই মেশিন, মেয়ে বিবাহ, হাঁস-মুরগী ও গরু-ছাগল পালন, গৃহ মেরামত, ঋণগ্রস্থদের ঋণ পরিশোধের জন্য যাকাত ভাতা প্রদান। ৩. গরীব/দু:স্থ ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাস্তর অনুযায়ী কম-বেশী শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। ৪. প্রকৃত গরীব/দু:স্থ প্রতিবন্ধিদের পুনর্বাসন করা হয়।  ৪. জটিল ও দুরারোগ্য চিকিৎসার জন্য দু:স্থ ও গরীব রোগীদের চিকিৎসা বাবদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ৫. প্রকৃত দু;স্থ নও-মুসলিম পুরুষ/মহিলাদের স্বাবলম্বী করণ। উল্লেখিত খাতসমূহের বিতরণের নিমিত্ত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জনপ্রতি গড়ে ৬,০০০/- (ছয় হাজার) টাকা জেলা/উপজেলা যাকাত কমিটির মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থ দ্বারা যাকাত সামগ্রী/নগদ অর্থ জরুরিভিত্তিতে বিতরণ সম্পন্ন করা হয়।
  6. হজ্ব : সুষ্ঠ ভাবে পবিত্র হজ্ব পালন করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন সারাবছর সরকাররি ব্যবস্থাপনায় হজ্জে গমনেচ্ছুক সম্মানীত হজ্বযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন করা হয় এবং প্যাকেজ ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধন সম্পন্ন করাসহ হজ্জের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারি/বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সম্মানীত হজ্বযাত্রীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়ে থাকে।
  7. ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকাত্মিক প্রচেষ্টায় ২০০১ সালে ৫৬ আইনের মাধ্যমে ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যান ট্রাস্ট গঠিত হয়। ট্রাস্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা। শুরু থেকে ২০১৭-১৮ অর্থ বছর পর্যমত্ম সরকার মোট ৩২ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে মঞ্জুরী প্রদান করেন মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯-২০ অর্থ বছরে আরো ১০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করেন। ট্রাস্টের শুরু থেকে ২০১৭-১৮  অর্থ বছর পর্যন্ত সকল জেলার সদস্যভুক্ত ঋণ হিসেবে ৭,৪৪৩ জনকে ৮,৭৭,৯৭,৫০০ টাকা এবং আর্থিক সাহায্য (অনুদান) হিসেবে ৯,৬৪৯ জনকে ৩,৩৩,৫৮,০০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে ট্রাস্টের সদস্যভুক্ত ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারের অধিক। ট্রাস্টের কার্যাবলীর মধ্যে রয়েছে কোন ইমাম বা মুয়াজ্জিন মারাত্বক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব, দুরারোগ্যব্যাধি ইত্যাদি জনিত কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে তাকে আর্থিক সাহায্য প্রদান, কোন ইমাম বা মুয়াজ্জিন আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারকে আর্থিক সাহায্য প্রদান। ইমাম বা মুয়াজ্জিনকে সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং তাঁদের পরিবারের সার্বিক কল্যাণ সাধনকল্পে কার্যক্রম গ্রহণ।।
  8. ইমাম প্রশিক্ষণ : ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অন্যতম একটি বিভাগ হচ্ছে ইমাম প্রশিক্ষন একাডেমী। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, দিনাজপুর ও সিলেট। এই ৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণকে ইসলামের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান দানের পাশাপাশি যেমন- গণশিক্ষা, পরিবার কল্যাণ, কৃষি ও বণায়ন, প্রাণী-সম্পদ পালন ও মৎস্য চাষ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও প্রাথমিক চিকিৎসা, বৃক্ষ রোপন, বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি, পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি, বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচিতি, আদর্শ পরিবার গঠন, নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশু পাচার, সমাজে অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে ব্যবহারিক ও মৌখিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে ইমামদেরকে উপার্জনক্ষম এবং সমাজে শামিত্ম ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ইমামদের প্রশিক্ষিত করে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই ইমাম প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এই প্রশিক্ষিত ইমামগণ তাদের প্রশিক্ষিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজে যেমন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে অন্যদিকে দেশ ও জাতীয় পর্যায়ে আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। উল্লেখিত প্রশিক্ষণ ছাড়াও ইউএনএফপিএ-এর অর্থানুকূল্যে ‘‘মানব সম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্তকরন।’’ প্রকল্পের আওতায় প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু ও মাতৃমঙ্গল, এইচ আইডি এইডস, সন্ত্রাস ও জঙ্গবাদ প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

ইমামগণ প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আর্থ সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। শুরু থেকে ৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ৯৫ হাজার ৮৫ জনকে প্রদান করা হয়েছে। নিয়মিত ৪৫ দিনের প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে ৩৪ হাজার ৩৩০ জনকে রিফ্রেসার্স কোর্সে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ৩৬১৩ জন ইমাম, মাদ্রাসার ছাত্র ও বেকার যুবককে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং ৩১৩৪৮ জন ইমামকে মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। USAID- এর অর্থায়নে দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ১৫ হাজার ৭০০ জন ইমামকে লিডার্স অব ইনফ্লুয়েন্স (LOI) প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ২ লক্ষ ১২ হাজার ৬৪৭ জন ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। দেশ হতে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস দূরীকরণ সমাজে শামিত্ম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ইমামদেরকে প্রশিক্ষিত করে তাদের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ার প্রচেষ্ট অব্যাহত রাখা হচ্ছে, এই প্রশিক্ষিত ইমামগণ গ্রাম-গঞ্জে মসজিদের জুম্মায় খুতবায় পূর্বে বয়ানের মাধ্যমে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রেখে চলছেন।

 

এক নজরে ময়মনসিংহ বিভাগ :

ময়মনসিংহ বিভাগ সৃষ্টি : সরকার বিগত ১৩ অক্টোবর, ২০১৫ খ্রি. তারিখে গেজেটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর এবং নেত্রকোণা জেলা সমন্বয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ সৃষ্টি করেছে।

ময়মনসিংহ বিভাগ :

ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা অফিসসমুহ

ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ টি জেলা অফিস ও তার ঠিকানা :

 

ক্রমিক নং

জেলা কার্যালয়ের নাম

মোট উপজেলা

উপজেলার নামসমুহ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়

http://islamicfoundation.mymensingh.gov.bd/

১৩টি

ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, ভালুকা, ফুলবাড়িয়া, মুক্তাগাছা, গফরগাঁও, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল, তারাকান্দা, ফুলপুর, হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জামালপুর জেলা কার্যালয়

http://islamicfoundation.jamalpur.gov.bd/

৭টি

জামালপুর সদর, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ী ও বকশীগঞ্জ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেত্রকোণা জেলা কার্যালয়

http://islamicfoundation.netrokona.gov.bd/

১০টি

নেত্রকোণা সদর, পূর্বধলা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা, আটপাড়া, মদন, কেন্দুয়া, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা ও খালিয়াজুরী ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন শেরপুর জেলা কার্যালয়

http://islamicfoundation.sherpur.gov.bd/

৫টি

শেরপুর সদর, নকলা, ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী ।

 

ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা ওয়ারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য

ক্রম

জেলার নাম

গণশিক্ষা কেন্দ্র (মক্তব) সংখ্যা

মসজিদ সংখ্যা

কওমী মাদ্রাসা সংখ্যা

আলিয়া মাদ্রাসা সংখ্যা

ঈদগাহ মাঠ সংখ্যা

কবরস্থান সংখ্যা

মডেল মসজিদ সংখ্যা

 

ময়মনসিংহ

২৩৯৯

১০৯০৪

 

 

 

 

১৪/৯

 

জামালপুর

১৩৬৬

৪১২৩

 

 

 

 

৮/৭

 

নেত্রকোণা

১২০০

৪২১৬

 

 

 

 

১১/১০

 

শেরপুর

৯২৪

৩০০৪

 

 

 

 

৬/৩

 

মোট =

৫৮৮৯

২২২৪৭

 

 

 

 

৩৯/২৯

 

 

ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা ও উপজেলাসমূহ

 

ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ টি জেলা:

 

ক্রমিক নং

জেলার নাম

মোট উপজেলা

উপজেলার নাম

ময়মনসিংহ

১৩টি

ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, ভালুকা, ফুলবাড়িয়া, মুক্তাগাছা, গফরগাঁও, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল, তারাকান্দা, ফুলপুর, হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া।

জামালপুর

৭টি

জামালপুর সদর, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ী ও বকশীগঞ্জ।

নেত্রকোণা

১০টি

নেত্রকোণা সদর, পূর্বধলা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা, আটপাড়া, মদন, কেন্দুয়া, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা ও খালিয়াজুরী ।

শেরপুর

৫টি

শেরপুর সদর, নকলা, ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী ।

 

ছবি

 

জেলার নাম

জেলার আয়তন

উপজেলার সংখ্যা

পৌরসভার সংখ্যা

ইউনিয়ন

মোট গ্রামের সংখ্যা

জনসংখ্যা

মোট ভোটার

ময়মনসিংহ

৪৩৬৩.৪৮

বর্গ কিঃ মিঃ

১৩টি

১০টি

১৪৬টি

২৬৯২টি

৫৩,১৩,১৬৩ জন

৩৫,৯৪,৪৯৩ জন

জামালপুর

২০৩১

বর্গ কিঃ মিঃ

০৭টি

০৭টি

৬৭টি

১৩৬২টি

২৩,৮৪৮১০ জন 

১৫,৯৭,২৫৫ জন

নেত্রকোণা

২৭৯৪

বর্গ কিঃ মিঃ

১০টি

০৫টি

৮৬টি

২২৯৯টি

২২,০৭,০০০ জন 

১৪,৬৬,১১৬ জন

 

শেরপুর

১৩৬৩.৭৬  বর্গ কিঃ মিঃ

০৫টি

০৫টি

৫২টি

৮৯৩টি

১৫,৪২,৬১০ জন 

৯,৯২,১৯১ জন

সর্বমোট

১০৫৫২

বর্গ কিঃমিঃ

৩৫টি

২৭টি

৩৫১টি

৭২৪৬ টি

১,১৪,৪৭,৫৮৩ জন

৭৭,১২,৩৫৯ জন

ময়মনসিংহ বিভাগের বর্তমান ভোটার সংখ্যা :

ক্র: নং

জেলার নাম

পুরুষ ভোটার

মহিলা ভোটার

মোট ভোটার

01.

ময়মনসিংহ

১৮,১৫,৮৭০

১৭,৭৮,৬১৬

৩৫,৯৪,৪৯৩

02.

জামালপুর

৭৮,৮,৭৬৯

৮,০৮,৪৮৬

১৫,৯৭,২৫৫

03.

নেত্রকোণা

৭,৬৮,৬৮৮

৭,৫৯,৭৩২

১৫,২৮,৪২০

04.

শেরপুর

৪,৯২,৬৪৫

৪,৯৯,৫৪৬

৯,৯২,১৯১

সর্বমোট

৩৮,৬৫,৯৭৯ জন

৩৮,৪৬,৩৮০ জন

৭৭,১২,৩৫৯ জন

ময়মনসিংহ বিভাগের ০৪ জেলার সংসদীয় আসন সংখ্যার তথ্যাদি :

ক্র: নং

জেলার নাম

সংসদীয় আসন সংখ্যা

01.

ময়মনসিংহ

১১টি

02.

জামালপুর

০৫টি

03.

নেত্রকোণা

০৫টি

04.

শেরপুর

০৩টি

সর্বমোট সংসদীয় আসন

২৪টি

 

ময়মনসিংহ বিভাগের দর্শনীয় স্হান :

ময়মনসিংহ জেলাঃ

  • বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  • আলেকজান্ডার ক্যাসেল
  • জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা
  • সার্কিট হাউস
  • রামগোপালপুর জমিদারবাড়ি
  • বিপিন পার্ক
  • বোটানিক্যাল গার্ডেন
  • ব্রক্ষপুত্র নদ
  • গৌরীপুর রাজবাড়ি
  • কেল্লা তাজপুর

নেত্রকোণা জেলাঃ

  • হয়রত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রাঃ) এঁর মাজার শরীফ নেত্রকোণা সদর।
  • বিজয়পুর পাহাড়ে চিনামাটির নৈসর্গিক কাজ
  • টংক আন্দোলনের স্মৃতি সৌধ
  • রানীখং মিশন টিলাতে ক্যাথলিক গির্জা
  • বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি
  • কমলা রানীর দীঘি
  • নইদ্যা ঠাকুরের ভিটা
  • রাশমনি স্মৃতি সৌধ,দূর্গাপুর
  • লেংগুরা, চেংটি, গোবিন্দপুরের পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্য, কলমাকান্দা
  • সাত শহীদের মাজার কলমাকান্দা

জামালপুর জেলাঃ

  • হয়রত শাহ জামাল (রাঃ) এঁর মাজার শরীফ, জামালপুর সদর
  • হয়রত শাহ কামাল (রাঃ) এঁর মাজার শরীফ,মেলান্দহ
  • দয়াময়ী মন্দির, জামালপুর শহর।
  • লাওচাপড়া পিকনিক স্পট, বকশীগঞ্জ
  • যমুনা ফার্টিলাইজার, তারাকান্দি, সরিষাবাড়ী

শেরপুর জেলাঃ

  • গজনী অবকাশ কেন্দ্র
  • মধুটিলা ইকো পার্ক
  • নয়াবাড়ির টিলা
  • রাজার পাহাড় থেকে বাবলাকোনা
  • পানি হাতা তারানি পাহাড়
  • অর্কিড পর্যটন কেন্দ্র
  • নাকুগাঁও স্হল বন্দর

 

ময়মনসিংহ বিভাগের 2017 ও 2018 সালের প্রতিরোধকৃত বাল্য বিবাহের সংখ্যা

ক্র: নং

জেলার নাম

2017 সালের প্রতিরোধকৃত বাল্য বিবাহের সংখ্যা

মন্তব্য

জানুয়ারি’17 - ডিসেম্বর’17

জানুয়ারি’18 - জুন’18

1

ময়মনসিংহ

113

-

-

2

নেত্রকোণা

39

-

-

3

জামালপুর

106

-

-

4

শেরপুর

166

-

-

                        মোট =

424

-

-

ডিজিটাল বাংলাদেশঃ  মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এর মাধ্যমে পাঠদান (ময়মনসিংহ বিভাগের তথ্যাদি)

ক্র: নং

জেলার নাম

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা

চালুকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা

চালু নেই এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা

1

ময়মনসিংহ

৭৪৮টি

586 টি

 2437 টি

2

জামালপুর

৪৪৪টি

287 টি

98 টি

3

নেত্রকোণা

২৪৯টি

172 টি

1279 টি

4

শেরপুর

২৬৬টি

163 টি

789 টি

মোট

১৭০৭ টি

1208 টি

4603 টি

ময়মনসিংহ বিভাগের সরকারি/বেসরকারি/রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা

ক্র : নং

জেলার নাম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মন্তব্য

স্কুলের সংখ্যা

ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা

1

ময়মনসিংহ

২১৩৮

৮,৫২,২০৩

-

2

নেত্রকোণা

১৩১৫

৪,০৬,৬৯৬

-

3

জামালপুর

১১৫৯

২,০৮,৯৩১

-

4

শেরপুর

৭৪২

২,২৮,৪৬০

-

মোট

৫,৩৫৪

১৬,৯৬,২৯০

-

 


ময়মনসিংহ বিভাগের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ :

  1. জনবান্ধব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস বিনির্মাণের জন্য গৃহীত 24 টি উদ্যোগ অধিকাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।
  2. জনবান্ধব উপজেলা প্রশাসন বিনির্মাণের জন্য গৃহীত 39 টি পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
  3. মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত এবং ঝরে পড়া রোধকল্পে এ বিভাগের মোট 04 টি জেলায় 4849 টি বিদ্যালয়ে 7,72,948 টি টিফিন বক্সা বিতরণ করা হয়েছে।
  4. ময়মনসিংহ বিভাগের সকল উপজেলায় ভিক্ষুক জরিপ ও পুনর্বাসন তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ বিভাগের চারটি জেলায় চূড়ান্তভাবে জরিপকৃত ভিক্ষুক সংখ্যা 22,704 জন; তন্মধ্যে 3,279 জনকে ইতোমধ্যে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এ তহবিলে সরকারি কর্মচারীদের 01 দিনের বেতন হিসেবে 2,92,47,937/- (দুই কোটি বিরানব্বই লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার নয়শত সাঁয়ত্রিশ) টাকা জমা হয়েছে।
  5. সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিরসনে জেলা পর্যায়ে 09 টি, উপজেলা পর্যায়ে 105 টি, পৌরসভা 75 টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে 765 টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে।
  6. 2016-17 সালে 664 টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে। 2017 সালে ‍এ পর্যন্ত ময়মনসিংহের 113টি, নেত্রকোণার 39টি, জামালপুরের 106 টি এবং শেরপুরের 166 টি সহ মোট 424 টি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে। 2018 সনের মধ্যে অধিকাংশ উপজেলাকে বাল্য বিবাহমুক্ত করার কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।
  7. ভূমি বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকার কারণে জমি হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জনগণকে প্রায়ই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ বিষয়টিকে সামনে রেখে ভূমি বিষয়ক প্রাথমিক ধারণা প্রদানের জন্য সকল উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রোথ সেন্টার, ইউনিয়ন পরিষদে ভূমি শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
  8. আরওআর, নামজারি ও বিবিধ মামলার নথিসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য সকল উপজেলা ভূমি অফিসের রেকর্ডরুম সংস্কার করা হয়েছে এবং সাল ভিত্তিক সজ্জিতকরণ করা হয়েছ।
  9. নামজারি ও বিবিধ মামলার নথিগুলো সালওয়ারি বিন্যস্ত করে কালার কোডিং এর মাধ্যমে উপজেলা ভূমি অফিসের রেকর্ডরুমে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে।
  10. 11তম শিক্ষা বোর্ড হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ গঠন করা হয়েছে।
  11. নবসৃষ্ট ময়মনসিংহ বিভাগের বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কার্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের জায়গা এবং অস্থায়ী ভবনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবারই প্রথম এ বিভাগের 38তম বিসিএস প্রিলিমিনারী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    ময়মনসিংহ বিভাগীয় কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

  1. ময়মনসিংহ আঞ্চলিক স্কাউটস অফিস স্থাপন করা হয়েছে।
  2. প্রত্যেক কর্মকর্তা/কর্মচারীর জন্য 60 ঘন্টা প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ।

বিভাগীয় শহরের বাস্তবায়ন অগ্রগতি :

  1. ব্রহ্মপুত্র নদের অপর পাড়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় অবস্থিত 08 টি মৌজায় 4366.88 একর ভূমিতে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত নতুন বিভাগীয় শহর‍ ও বিভাগীয় সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার জন্য নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর একটি ভূমি ব্যবহার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী 17 আগষ্ট 2016 তারিখে 14টি নির্দেশনাসহ উক্ত ভূমি ব্যবহার মহাপরিকল্পনাটি অনুমোদন করেন।
  2. ব্রহ্মপুত্র নদের উপর তিনটি নান্দনিক সেতু দ্বারা নতুন শহরটি পুরাতন শহরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। নতুন শহরের রাস্তাগুলোর প্রশস্থতা হবে 150 ফুট ও 100 ফুট। দাপ্তরিক, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধূলা, বিনোদন ইত্যাদি ব্লকগুলো থাকবে আলাদা আলাদা। সুপরিসর একটি প্রাকৃতিক লেকের পাড়ে থাকবে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, মিউজিয়াম, হোটেল-মোটেলসহ নান্দনিক অনেক স্থাপনা।
  3. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে 4366.88 একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার শাখার বিগত 08/12/2016 খ্রি. তারিখের 04.00.0000.721.06.001.15-126 নং স্মারকে বিভাগীয় কমিশনারকে সমুদয় ভূমি (4366.88 একর) অধিগ্রহণের জন্য প্রত্যাশী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
  4. জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ ভূমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক কার্যক্রমও প্রায় চূড়ান্ত করেছে। প্রাথমিক হিসাবে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ৩৩৯০,৬২,২৫,১৯১/- (তিন হাজার তিনশত নব্বই কোটি বাষট্টি লক্ষ পঁচিশ হাজার একশত একানব্বই) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার, ময়মনসিংহ উক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করেছেন।
  5. মাননীয় অর্থমন্ত্রী একটি ডিপিপি প্রণয়নপূর্বক অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব প্রেরণের জন্য মাননীয় জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। তৎপ্রেক্ষিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন ব্যয় বাবদ 7677 কোটি টাকার ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
  6. মাননীয় জনপ্রশাসন মন্ত্রী মহোদয় বিগত 04/07/2017 খ্রি. তারিখে নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সদর দপ্তর ও নতুন বিভাগীয় শহর প্রতিষ্ঠাকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ 3300 কোটি এবং অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ 3000 কোটি টাকা সহ মোট 6300 কোটি টাকা 2017-18 অর্থ বছরে বিশেষ মঞ্জুরী হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদানের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আধা-সরকারি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিগত 17/11/17 খ্রি. তারিখে অর্থ বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে কে সানুগ্রহ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এখনো অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
  7. প্রস্তাবিত ভূমি অধিগ্রহণের ফলে যে সকল ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তাদের জমি, বসতবাড়ী, গাছপালাসহ অন্যান্য যাবতীয় অবকাঠামোর উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে মর্মে স্থানীয় অধিবাসদের বিভিন্নভাবে জানানো হচ্ছে। অধিকন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনানুযায়ী ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে নতুন শহরের বিভিন্ন স্থানে পুনর্বাসন করা হবে মর্মেও তাদেরকে অবহিত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রস্তাবিত শহরের অভ্যন্তরে ক্ষতিগ্রস্থদের বসতবাড়ীর নিকটবর্তী 52 টি এলাকা চিহ্নিত করেছেন। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে প্রস্তাবিত এলাকার ভূমি অধিগ্রহণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ‍
  8. নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সদর দপ্তরের জন্য নির্ধারিত 114.3775 একর ভূমি চিহ্নিত করা হয়েছে । বর্ণিত ভূমিতে বিভাগীয় সদর দপ্তর, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ ও অন্যান্য স্থাপনার ডিজিটাল সার্ভে নক্সা প্রণয়নের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী, ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগ, ময়মনসিংহকে অনুরোধ করা হয়েছে। ডিজিটাল সার্ভে নক্সা প্রণয়নের জন্য সরেজমিনে যেতে হয়। কিন্তু অধিগ্রহণের বিপক্ষে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় লোকজনের বিরোধিতার কারণে নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তৃক সরেজমিনে পরিমাপ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ডিজিটাল সার্ভে নক্সা প্রণয়ন বিলম্বিত হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ আলোচনা অব্যাহত আছে।
  9. গত 22/02/2018 তারিখ থেকে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, 2017 এর 4(1) ধারা অনুযায়ী নোটিশ জারি এবং সরেজমিনে যৌথ জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মোট এল.এ কেসের সংখ্যা 05 টি। তন্মধ্যে 01 টি এল.এ কেসের মাধ্যমে 2414 টি জারি হয়েছে। নোটিশ জারির শুরুতে স্থানীয় কিছু লোকের অসযোগিতা ও বাধা ছিল। সরকারি কাজে বাধা দেয়ার কারণে থানায় 02টি মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় লোকজন নোটিশ গ্রহণ করছেন।
  10. অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত এলাকায় আনুমানিক 300টি  ভূমিহীন পরিবার আছে (জেলা প্রশাসকের তথ্যানুযায়ী)। পার্শবর্তী মৌজাসমূহে অবস্থিত খাস জমিতে গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
  11. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যটন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নিকট পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
  12. বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি সহ 20/21 জন বিভাগীয় দপ্তর প্রধানের নিয়োগ/পদায়নের মাধ্যমে বিভাগীয় কার্যক্রম চলছে। অন্য 07 টি বিভাগীয় শহরকে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে ঘোষণা করার হলেও নবসৃষ্ট ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরকে এখনো ব্যয়বহুল শহর হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ অন্য বিভাগীয় শহরের ন্যয় বর্ধিত হারে বাড়ি ভাড়া, ভ্রমণ ভাতা সহ অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছেন। ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরকে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষাধীন আছে।                

 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter